দেশের বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব চলেছে

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৫
Wifi Support 3Lens 3Display Camera + 64GB Memory Card

Wifi 3Lens 3Display Camera

৳8,000.00 ৳6,000.00
  • ✅ 360° কভারেজ: ৩টি শক্তিশালী লেন্সে।
  • ✅ অলরাউন্ডার: WiFi, নাইট ভিশন ও মুভমেন্ট অ্যালার্ট।
  • ✅ ৩ ডিসপ্লে: একসাথে ৩টি ভিউ মনিটরিং।
  • ✅ ওয়ারান্টি: Champion Brand এর ১ বছরের ওয়ারান্টি।
অফার মূল্যে কিনুন! WhatsApp এ অর্ডার করুন

নিউজ ডেস্ক –

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) আওতাধীন দেশের বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নের নামে লুটপাটের মহোৎসব চলেছে। লুটপাটের মহোৎবের নেতৃত্বে ছিলেন যেসব কর্মকর্তা তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। তার নেতৃত্বে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, এসব প্রকল্প নিয়ে তদন্ত চলমান। তদন্ত শেষে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।

Saree

Beautiful Designer Saree

Perfect for all occasions. Grab yours now!

Buy Now on Amazon

বেবিচকের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের মামলায় ইতোমধ্যে আসামি হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক বিমান সচিব মহিবুল হক, যুগ্মসচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক ও বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান।

আসামিদের মধ্যে তারিক আহমেদ সিদ্দিক বর্তমানে পলাতক। সাবেক সচিব মহিবুল হককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যুগ্মসচিব জনেন্দ্রনাথ সরকারকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক অবসরে গেছেন।

তবে এতকিছুর পরও অফিস করছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। অথচ তার নেতৃত্বে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন তাদের অনুসন্ধানে এই লুটপাটের সঙ্গে প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছে। এ ঘটনায় হাবিবুর রহমানসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া হাবিবের বিরুদ্ধে দুদকে অনিয়ম-দুর্নীতির আরও একাধিক অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশের সব বিমান ও স্থলবন্দরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই আদেশ বাস্তবায়নে পুলিশের বিশেষ শাখা ও ইমিগ্রেশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হাবিবুর রহমানকে কঠোর নজরদারিতে রেখেছেন। গোয়েন্দারা বলেছেন, যে কোনো সময় গ্রেফতার করা হবে হাবিবসহ মামলার আসামিদের।

অন্যদিকে বেবিচক বোর্ডের একাধিক প্রভাবশালী সদস্য ও পরিচালক তাকে সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ দুদকের মামলার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে তাকে আরও ২ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাবও তৈরি।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত মহিবুল হক যখন এই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন তখন এই জনেন্দ্রনাথ সরকার আর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান মিলে দেশের বিমানবন্দরগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে লুটপাট চালান। তাদের শেল্টার দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। ওই সময় হাবিবুর রহমান সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ের শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের পিডি ছিলেন।

এছাড়া ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প-১ এর সদস্য সচিব, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রকল্পের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে পিডি, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প ও টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের পিডি। এসব প্রকল্প থেকে অসাধু চক্র শত শত কোটি টাকা লুটপাট করেছেন বলেও দুদক মামলার এফআইআরে উল্লেখ করেছে।

এ প্রসঙ্গে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মঞ্জুর কবীর ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে হাবিবুর রহমানকে প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এখন আমরা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

চেয়ারম্যান বলেন, মামলা হলেই একজনকে দোষী বলা যাবে না। দুদক মামলা করেছে, এখন তদন্ত হবে, তারপর চার্জশিট। কোর্ট দুদকের চার্জশিট গ্রহণ করার পরই মূলত একজনকে অপরাধী বলা যায়। তিনি বলেন, বর্তমানে বেবিচকের বেশির ভাগ পিডি কোনো না কোনো মামলার আসামি। এখন যদি সব পিডিকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে বিমানবন্দরগুলো অচল হয়ে যাবে।

জানা গেছে, হাবিবুর রহমানের নিয়োগের সময় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, দুদক তদন্ত করছে এ রকম একজন ব্যক্তিকে কোনোভাবেই পদোন্নতি দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী করা ন্যায়সঙ্গত হয়নি। যারা তাকে পদোন্নতি দিয়েছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’ প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান এসব বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

তিনি বলেছেন, এ নিয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের পাবলিক রিলেশন্স কর্মকর্তা আছেন। তিনি শুধু বলেন, দুদকের মামলাগুলোর সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার আমলে এ ধরনের কোনো কাজ হয়নি। নিজে কোনো অন্যায় করেননি বলে জানান।

দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মুহিবুল হক, সাবেক যুগ্মসচিব জনেন্দ্রনাথ সরকার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সাবেক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক, বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিগত ১৫ বছরে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের উন্নয়নকাজের নামে হাজার হাজার কোটি লুটপাট ও আত্মসাৎ করেছেন। এ সংক্রান্ত সব তথ্যপ্রমাণ দুদকে আছে।

ইতোমধ্যে থার্ড টার্মিনালসহ দেশের ৮ বিমানবন্দরে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৯শ কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে মামলা হয়েছে।

আরও মামলার প্রস্তুতি চলছে। দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলেছেন, যেখানে হাত দিচ্ছেন সেখানেই দুর্নীতির তথ্য পাচ্ছেন। গত সরকারের মেয়াদে এসব হলেও এর প্রভাব বিদ্যমান এখনো। একই মামলার আসামিদের একজন পলাতক, বাধ্যতামূলক অবসরে এক কর্মকর্তা, জেলেও আছেন একজন। আবার এখন পর্যন্ত স্বপদে বহাল, অফিস করছেন এমনো একজন আছেন।

জানা গেছে, কাজ না করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামে ১৩৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। একটি বিদেশি কোম্পানিকে দিয়ে প্রকল্প যাচাই-বাছাইয়ের নামে এই টাকা লোপাট হয়। এখন পর্যন্ত একটি বই প্রিন্ট করা ছাড়া এই প্রকল্পের অর্জন শূন্য। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই ২১২ কোটি টাকার বিল দেওয়া হয়েছে ঠিকাদারকে।

থার্ড টার্মিনালের নকশা পরিবর্তন করে সাশ্রয় হওয়া ১২শ কোটি টাকার কোনো হদিস নেই। এছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে ৪৫৫ কোটি, টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের ২৩শ কোটি টাকা, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে শক্তি বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পে সাড়ে ৫শ কোটি এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্প ও টার্মিনাল ভবন নির্মাণ প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন