

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –
যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েল আবারও গাজায় ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) চালানো হামলায় নিহত হয়েছে তিন শতাধিক। যা আপাতদৃষ্টে হামাসের সাথে করা যুদ্ধবিরতি অকার্যকর করার দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
গাজায় একদিকে যেমন মৃতদেহের সারি, অন্যদিকে স্বজনহারাদের গগনবিদারী আর্তনাদ। তা দেখে কী বলছে বিশ্ব সম্প্রদায়? কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বিস্তারিত জানিয়েছে ভয়াবহ এই হামলা নিয়ে কার কী প্রতিক্রিয়া।
হামাস:
গাজা শাসনকারী হামাস বলেছে, তারা ইসরায়েলের আক্রমণকে এরইমধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির একতরফা বাতিল হিসেবে দেখছে।
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও তার চরমপন্থি সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। যা গাজায় থাকা বন্দীদের এক অজানা পরিণতির মুখোমুখি করবে।
অপরদিকে হামাস কর্মকর্তা ইজ্জত আল রিশেক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর পুনরায় যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে তারা মূলত তাদের বন্দীদের উৎসর্গ করারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র:
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোয়াইট হাউসের সাথে পরামর্শ করেই এ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবার:
গাজায় বন্দিদের পরিবারের প্রতিনিধিত্বকারী ‘হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম’ এক্স-এর একটি পোস্টে বলেছে, ইসরায়েলি সরকারের আক্রমণের সিদ্ধান্ত এটাই প্রমাণ করে যে তারা জিম্মিদের ফেরত আনার বিষয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছে।
গ্রুপটি বলেছে, হামাসের ভয়াবহ বন্দিদশা থেকে আমাদের প্রিয়জনদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলায় আমরা হতবাক, ক্ষুব্ধ এবং আতঙ্কিত। তারা সরকারকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে, কেন তারা হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে এসেছে।
ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী:
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা আমেরিকার সাথে ক্রমবর্ধমান শত্রুতার জেরে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
হুতিদের সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে বলেছে, আমরা গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে ইহুদি শত্রুর আগ্রাসন পুনরায় শুরু করার নিন্দা জানাই। সেইসাথে এই যুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণকে একা রাখা হবে না বরং ইয়েমেন তাদের সমর্থন ও সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ:
ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর সমস্ত চেষ্টা নষ্ট করছে।
চীন:
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, বেইজিং পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এছাড়াও উভয় পক্ষকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে, এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস:
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক মুসলিম নাগরিক অধিকার ও সমর্থনকারী এ সংগঠন এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু সরকারের গণহত্যামূলক আক্রমণ পুনরায় শুরু করার নিন্দা জানিয়েছে।