অবিলম্বে বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান করুন: সংগ্রাম পরিষদ


৮ দফা দাবিতে রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে (২৮ ফেব্রুয়ারি) শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ সিলেট মহানগর শাখার সহ-সভাপতি শেখ রফিক আহমদ এর সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা সভাপতি আবু জাফর, বাসদ সাবেক জেলা আহ্বায়ক উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ফেডারেশনের বীরেন সিং, ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দের মধ্যে ইউনুস আলী, মিজান মিয়া, মাহফুজ আহমে,সিমান্ত রায়, শফিকুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, রণি আহমদ প্রমূখ।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সারা দেশে প্রায় ৫০ লাখ চালক পরিবার এইসব ব্যাটারি চালিত থ্রি হুইলার ও সমজাতীয় যানবাহনের উপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল।এইসব যানবাহন তৈরি, মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশ নির্মাণ, বিক্রি, চার্জিং সহ নানা ধরনের কাজে অসংখ্য মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। দেশের সকল জেলা ও বিভাগে নগর পরিবহণ নেই ফলে কোটি কোটি মানুষ ব্যাটারি চালিত যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। এই খাত যেমন বিপুল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এইসব বাহন বিদ্যুতে চলে বলে পরিবেশ দূষণ কম করে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে এদের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরি এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ করা হয়। এইসব বাহন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, চালকেরা বিদ্যুৎ চুরি করে না বরং বর্ধিত দামে ( প্রায় ২৫ টাকা ইউনিট) বিদ্যুৎ কিনে থাকে। তাই কর্মসংস্থান, জীবিকা, যাতায়াত এবং দেশের অর্থনীতির বিকাশের কথা বিবেচনা করলে এই খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে যে রাজস্ব ঘাটতি চলছে সেক্ষেত্রে দ্রুত নীতিমালা চুড়ান্ত করে ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত বাহনকে নিবন্ধন ও চালকদের লাইসেন্স এর আওতায় আনলে রাজস্বে কয়েক হাজার কেটি টাকার যোগান নিশ্চিত হবে। একইসাথে দেশীয় গাড়ি শিল্পে একটি বিপ্লব, কর্মসংস্থান ও শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। যেখানে শুধু প্রয়োজন হবে দুর্নীতিমুক্ত সঠিক ব্যবস্থাপনা। ছাত্র শ্রমিক জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশে এখন এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়েছে। এই নতুন পরিস্থিতিতে এই খাতের উন্নতি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হবে তা আমরা প্রত্যাশা করি।