ঈদ বোনাসের দাবিতে নগরিতে ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের বিক্ষোভ-সমাবেশ

প্রকাশিত: ৭:৫৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২৫

আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে সকল প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের সকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ পূর্ণ বোনাসের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।
দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সিলেটে শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত ১০ ঘটিকার সময় সুরমা পয়েন্টে জমায়েত হয়ে এক বিক্ষোভ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সিলেটের ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়া’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ শাহপরান থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল মিয়া, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইমান আলী, বাবনা আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

 

 

বক্তারা বলেন দেশের অধিকাংস প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকদের প্রতি বছর ঈদ আসলে বেতন বোনাসের জন্য সভা সমাবেশ মিছিল মিটিং করতে হয়। উৎসব বোনাস শ্রমিকদের অধিকার। অথচ প্রতি বছর ঈদের আগে শ্রমিকদের ন্যায্য বোনাস থেকে বঞ্চিত করতে বিভিন্ন টালবাহানা করে মালিকপক্ষ। সারা বছর প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও ঈদ আসলে বোনাসের জন্য মালিকের নিকট ধর্না দিতে হয়। এরকম পরিস্তিতি প্রতিবছর ঘটলেও সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো তেমন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনা। দ্রব্যমূল্যের কষাঘাতে জর্জরিত জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি-মূল্যস্ফীতির এই সময়ে বাঁচার মতো মজুরি না পেয়ে অর্ধাহার অনাহার ক্লিষ্ট শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি জনগণের জীবন চলাই দায় হয়ে পড়েছে।

 

 

বক্তারা ২৫ রমজানের মধ্যে সকল শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ স্ববেতনে ছুটিসহ উৎসব ভাতা প্রদানে সরকার, মালিক ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহনের জন্য উদাত্ত আহবান জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উর্দ্ধগতির সময়ে দৈনিক মাত্র ১৭৮.৫০ টাকা মজুরিতে এমনিতেই চা-শ্রমিকদের অর্ধাহার-অনাহারে কাটাতে হয়। তার উপর গত কয়েক মাস থেকে সিলেট বিভাগের সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার এনটিসির ১২ টি চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারসহ অধিকাংশ বাগানের শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায়  শ্রমিকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে নিদারুন দুঃখ কষ্টে দিনানিপাত করতে বাধ্য হচ্ছে। চা শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ফাগুয়া উপলক্ষে অনেক বাগানে উৎসব বোনাস দেওয়া হয়নি। গুটিকয়েক বাগানে দেওয়া হয়েছে তাও অর্ধেক। সভা থেকে চা শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও ফাগুয়া উৎসব বোসান প্রদানের দাবি জানানো হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন