

ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সময়ের দাবি। শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় নাগরিক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এ দীর্ঘ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াই সফল হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন স্বৈরাচারী সরকার জনগণের রোষের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
তবে এই লড়াই এখানেই শেষ নয়, বরং নতুন রাষ্ট্র গঠনের পথে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। গত এক যুগের শাসনামলে আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে ভোটারবিহীন নির্বাচন করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। গুম, খুন ও মিথ্যা মামলার মাধ্যমে বিরোধী মত দমন করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করেছে। মিডিয়া ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করেছে। অর্থনীতিকে দুর্নীতির কবলে ফেলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সৃষ্টি করেছে। এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের বিজয় অর্জিত হলেও এখন একটি নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি, যা জনগণের চাহিদা ও মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নতুন রাজনৈতিক বন্ধোবস্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জকিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সিলেট জেলা সার্চ কমিটির সদস্য আব্দুর রহিম।
সমাজসেবী ও জাতীয় নাগরিক কমিটির জকিগঞ্জ উপজেলা সংগঠক হোসেন আহমদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা দেশ গঠনের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন। (১) দুর্নীতি ও লুটপাট বন্ধ করা – অবৈধ সম্পদ দখলদারদের বিচার নিশ্চিত করা। (২) নিরপেক্ষ প্রশাসন গঠন-দলীয়করণমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করা। (৩) শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ – যুবসমাজকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তোলা। জাতীয় নাগরিক কমিটি একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বারবার প্রতারিত হয়েছে, তাই একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক দল গঠন করতে হবে, যেখানে জনগণের মতামতই হবে নীতিনির্ধারণের ভিত্তি।
নাদিম আহমদের পরিচালনায় স্বগত বক্তব্য রাখেন ডা:গোলাম কিবরিয়া। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মো: ছালিম আহমদ খান ও আব্দুল আহাদ।
আহতদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, আশরাফুজ্জামান রাদী, লিমন আহমদ, আনহার হোসেন, ইমরান হোসেন, আশরাফুজ্জামান রাদ্দি, রুমেল আহমদ, মো: আব্দুল হাফিজ। এছাড়াও সভায় স্থানীয় নাগরিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন ইমরান হোসেন।