বিট রুট চাষাবাদ ও উপকারীতা

প্রকাশিত: ২:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২৪

উপযুক্ত মাটি
বিটরুট চাষের জন্য সঠিক মাটি এবং জলবায়ু বেছে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটরুট সাধারণত দোআঁশ মাটিতে ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। মাটির pH স্তর ৬.০ থেকে ৭.৫ এর মধ্যে থাকা উচিত। এছাড়াও, মাটির মধ্যে পর্যাপ্ত জৈব পদার্থ থাকা প্রয়োজন, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

জলবায়ু
বিটরুট চাষের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা ১৫°-২৫° ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি একটি ঠান্ডা আবহাওয়ার ফসল, তাই শীতল ও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে বিটরুট ভালোভাবে বৃদ্ধি পায়। উচ্চ তাপমাত্রায় বিটরুটের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।

বীজ বপনের সময়
বিটরুট একটি শীতকালীন ফসল। এর বীজ বপনের উত্তম সময় আগষ্ট হতে ফ্রেবুয়ারী মাস হল উপযুক্ত সময়

বিটরুটের_জাতঃ
হার্টবিট/বোহান/লাল্টু/কুইন এক্সপ্রেস

বীজহারঃ
এক বিঘা ৩৩ শতক জমির জন্য ৫০০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন

জমি তৈরিঃ
জমি ভালো করে ৪ টি চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝরে করে নিতে হবে। মাটিতে জৈব সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে মাটি উর্বর করে নিতে হবে। মাটি খুঁচিয়ে নিতে হবে, যাতে এটি নরম হয় এবং বীজ বপনের জন্য প্রস্তুত হয়।

বীজ বপন দুরত্বঃ
বিটরুটের বীজ সরাসরি জমিতে বোনা যেতে পারে। বীজগুলি সারি ধরে ১-২ সেন্টিমিটার গভীরে বপন করতে হবে। সারি থেকে সারির দূরত্ব ১৬ ইঞ্চি বা ৪০ সেন্টিমিটার এবং বীজ থেকে বীজের দূরত্ব ৬” ইঞ্চি বা ১৫ সেন্টিমিটার রাখা উচিত।

সেচ প্রয়োগ:
বিট উৎপাদনের জন্য মাটির আদ্রতা অবশ্যই ৬৫% এর উপরে রাখতে হবে। সুগারবিটের সক্রিয় মূল প্রায় ২০০-২৫০ সেমি পর্যন্ত মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে তাই মাটির ৬০ সেমি গভীর থেকে সে প্রায় ৭০% পানি গ্রহণ করে। প্রতি ১০০ কেজি মূল উৎপাদনের জন্য সুগারবিট মাটি থেকে প্রায় ৪০-৪৫ কেজি পানি গ্রহণ করে। সুগারবিটের জীবনকাল মাটির আদ্রতাভেদে ৫-৬ টি সেচ প্রয়োজন হয়। অঙ্কুরোদগম ভালভাবে হওয়ার জন্য বীজ বপনের পরপরই এমনভাবে একটি সেচ দিতে হবে যাতে রিজ/আইল সম্পূর্ণভাবে ভিজে যায়। পরবর্তীতে ১৫/২০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। বিট উত্তোলের ১৫-২০ দিন পূর্বে সেচ প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। তবে উত্তোলনের সময় মাটি খুব শুকনা ও শক্ত থাকলে সহজভাবে বিট উত্তোলনের জন্য হালকা সেচ প্রয়োগ করা যেতে পারে।

থিনিং
বীজ অঙ্কুরোদগমের ২-৩ সপ্তাহ পর, অতিরিক্ত চারা সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন হয়। প্রতি সারিতে প্রায় ১০-১৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে একটি চারা রাখতে হবে।

আগাছা দমনঃ
বিটের ভাল ফলন পাওয়ার জন্য সময়মত আগাছাদমনের প্রয়োজনীয়তা অত্যাধিক। বীজ বপনের পর থেকে ৯০-১০০ দিন পর্যন্ত জমি অবশ্যই আগাছামুক্ত রাখতে হবে। তিন পর্যায়ে আগাছা দমন করতে হবে; প্রথম ২৫-৩০ দিন পর, দ্বিতীয় ৪৫-৫০ দিন পর এবং তৃতীয় ৭০-৮০ দিন পর। তবে জমিতে আগাছার পরিমাণ বেশি হলে প্রয়োজনে আরও আগাছা দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সার প্রয়োগ বিঘা প্রতি ৩৩ শতকে
ইউরিয়া ২০ কেজি
টিএসপি ১৫ কেজি
পটাশ ১৫ কেজি
জিপসাম ২০ কেজি
দস্তা ১ কেজি
বোরন ১ কেজি

সার প্রয়োগ পদ্ধতিঃ
জমি চাষ করার পূর্বে সম্পূর্ণ জৈব সার (পচা গোবর) সম্পূর্ণ টিএসপি, জিপসাম, দস্তা ও বোরণ এবং এক তৃতীয়াংশ ইউরিয়া ও পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। পরবর্তীতে বীজ বপনের ৩০ ও ৬০ দিন পর বাকি ইউরিয়া ও পটাশ সার সারিতে উপরি প্রয়োগ করতে হবে।

গোড়ায় মাটি দেওয়াঃ
বিট একটি মূলজাতীয় ফসল, তাই গোড়ায় মাটি দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। দ্বিতীয় বার সার উপরি প্রয়োগ করার পর গাছের গোড়ায় মাটি দিতে হবে। মাটি এমনভাবে দিতে হবে যাতে গাছের মাথায় (Crown) মাটি না পড়ে।

পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণঃ
বিটরুটের প্রধান পোকামাকড়ের মধ্যে অ্যাফিড, বিট আর্মিওয়ার্ম এবং বিটলিফ মাইনার

রোগবালাই নিয়ন্ত্রণঃ 
বিটরুটের সাধারণ রোগগুলির মধ্যে
পাউডারি মিলডিউ, ডাউনিল মিলডিউ রোগবালাইয়ের আক্রমণ হলে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন।

ফসল সংগ্রহঃ
বিটরুট সাধারণত বীজ বপনের ৭০-৯০ দিনের মধ্যে সংগ্রহযোগ্য হয়। বিটরুটের শিকড় গুলি যখন ৫-৭ সেন্টিমিটার ব্যাসের হয়, তখন তা সংগ্রহ করা উচিত।

সংগ্রহ পদ্ধতি 
শিকড় টেনে তোলাঃ
বিটরুটের শিকড় মাটি থেকে টেনে তোলার সময় মাটি নরম রাখা উচিত, যাতে শিকড় সহজে বের হয়ে আসে।
পরিষ্কার করাঃ
শিকড় তোলার পর, মাটি থেকে পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং সবুজ পাতা কেটে ফেলতে হবে।
সংরক্ষণঃ
বিটরুট সংগ্রহের পর ঠান্ডা এবং শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত, যাতে এটি দীর্ঘ সময় ধরে তাজা থাকে।
ফলনঃ
মাঠ থেকে সাধারণত হাত দিয়ে বিট উত্তোলন করা হয়। সুগারবিটের হেক্টর প্রতি ফলন ১০-১৪ টন হয়।

বিট রুট কেন খাবেন?
উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।
জ্বালা পোড়া বা প্রদাহ কমায়।
হজম শক্তি বাড়ায়।
শারীরিক শক্তি বাড়ায়।
মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ায়।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।
দীর্ঘ মেয়াদী চোঁখের যত্নে সাহায্য করে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন