

আন্তর্জাতিক ডেস্ক –
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে একটি বড় গর্তে পড়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। উদ্ধারকারীরা মঙ্গলবার সকালে মৃতদেহটি মাটির গভীর থেকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় দমকল বিভাগ জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গ্যাংডং জেলায় মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই ব্যক্তি। এ ঘটনায় একজন গাড়ি চালকও আহত হয়েছেন। ঘটনাটি দক্ষিণ কোরিয়ার সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ড্যাশক্যাম ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাইওয়ে রাস্তায় দ্রুতগতিতে ছুটে চলা একটি গাড়ি হঠাৎ করে তৈরি হওয়া একটি গর্তে পড়ে যায়। গর্তটি মাঝরাস্তায় আকস্মিকভাবেই সৃষ্টি হতে দেখা যায়। এতে গাড়িটি পার হতে পারলেও এক মোটরসাইকেল আরোহীকে গর্তে পড়ে যেতে দেখা যায়।
স্থানীয় মিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধারকারীরা গর্তে মৃতদেহের সাথে একটি মোবাইল ফোন এবং মোটরসাইকেলটি খুঁজে পান। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
গ্যাংডং ফায়ার স্টেশনের প্রধান কিম চ্যাং সিওপ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, গর্তের ভেতরে ২ হাজার টন মাটি ও জল মিশ্রিত ছিল। তবে সিঙ্কহোলের প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে শহরে ২২৩টি সিঙ্কহোল দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্বল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা, পুরাতন বা ক্ষতিগ্রস্ত পাইপ, দীর্ঘমেয়াদি ভূমিধস এবং খননকাজের কারণে এগুলো ঘটেছে বলেও জানানো হয় প্রতিবেদনটিতে।
এর আগে জানুয়ারিতে, জাপানের ইয়াশিও শহরের একটি জংশনে সিঙ্কহোলে গাড়ি পড়ে যাওয়ার পর এক ট্রাক চালক নিখোঁজ হন।
অপরদিকে গতবছর আগস্টে, কুয়ালালামপুর শহরের কেন্দ্রে একটি ফুটপাথের সিঙ্কহোলে এক মহিলা নিখোঁজ হন।
মাটির উপরের স্তর ভেঙে হঠাৎ বড় গর্ত দেখা দেওয়ার ঘটনাকেই মূলত সিঙ্কহোল বলা হয়। সিঙ্কহোলের কারণগুলির মধ্যে একটি হল মাটির নিচে অবস্থিত চুনাপাথর বা খড়ির মত পাথর ভেঙে যাওয়া। এগুলো মাটির নিচে স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে। কখনও প্রক্রিয়াটি এতটাই ধীরে ঘটে যে সময়ের সাথে সাথে গর্তটি অনেক বড় হয়ে যায়। তবে মানুষের কার্যকলাপও যে সিঙ্কহোল গঠনকে ত্বরান্বিত করে তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই বলে মতামত গবেষকদের।