

সিলেট সদরের একটি কবরস্থানের ভূমি দখল ও পবিত্রতা নষ্টের অভিযোগ উঠেছে। দখলদারদের উচ্ছেদের দাবি স্থানীয়দের। তারা দীর্ঘদিন থেকে কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা ও দখল হওয়া ভূমি উদ্ধারের দাবি জানালেও অজ্ঞাত কারণে নিরব প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিরা।
এ ব্যাপারে তারা আবারও উদ্যোগী হয়েছেন এবং প্রায় পৌনে তিনশ’ মানুষের স্বাক্ষর নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনও করেছেন।
সম্প্রতি গণস্বাক্ষর যুক্ত এ আবেদনটি জমা দেয়া হয়।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সিলেট মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার সাহেববাজার এলাকার ফরিংউরা মৌজার জেএল নং ৫০ এর ১/২ খতিয়ানের ৪১০২নং দাগের ৩০ শতক ভূমি বিএস রেকর্ডভুক্ত একটি কবরস্থান। এটি প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরানো।
জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া আবেদনে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরে এই কবরস্থানটি গিলে খাওয়া শুরু করেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। তাদের নেতৃত্বে আছেন সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নের বড়াইলটিলা দেবাইরবহর গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ আলী বটল (৪২)।
তিনি একই গ্রামের মদরিছ আলীর ছেলে কুতুব মিয়া (৬০), তার ছেলে মখলিছ মিয়া (৩৫), বড়বন্দ গ্রামের মাহমদ আলীর ছেলে বাদশা মিয়া (৪০), বাজারতল গ্রামের বারিক মিয়া (৫৫), বড়বন্দ গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে ছাদেক আলী (৩৭), রামপুর গ্রামের আলাই মিয়ার ছেলে শহিদ আহমদ (৩০), বড়বন্দ গ্রামের ছয়ফুল মিয়া (৪৮) কে নিয়ে গোটা কবরস্থান দখলের পাঁয়তারায় লিপ্ত। তারা ইতিপূর্বে কবরস্থানের জমি দখল করে দোকানপাটও নির্মান করেছেন। এসব দোকান আবার পরস্পরের কাছে বিক্রিও করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তাছাড়া মোহাম্মদ আলী বটল কবরস্থানের ভূমি দখল করে পুকুর তৈরি, পাকা পিলার স্থাপন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে সুপারি গাছও লাগিয়েছেন। তাদের দোকানগুলোতে সন্ধ্যার পর থেকে মাদক ব্যবসায়ীসহ খারাপ লোকজন যাতায়াত করেন এবং প্রতি রাতে চলে অবৈধ ব্যবসা। কবরস্থানে প্রশ্রাব পায়খানারও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এই কবরস্থানে অনেক মুক্তিযোদ্ধার কবরও আছে।
কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা ও দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়ে অতীতে জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দেয়া হলেও তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি রহস্যজনক কারণে।
এ ব্যাপারে তারা অবিলম্বে কার্যকর আইনী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান।
আবেদনে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি, পঞ্চায়েত কমিটি ও মুরব্বিয়ানসহ প্রায় পৌণে ৩০০ মানুষ স্বাক্ষর করেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, মো. মনির উদ্দিন, দিলোয়ার, মুহিবুর রহমান মেম্বার, শামিম, গোলাপ, হাসান, সাত্তার, হেলাল, এনামুল প্রমুখ।